বোকামাষ্টারের খেরোখাতা

অগাষ্ট 24, 2008

একজন মহান শিক্ষকের চিরবিদায়

যার অধীনে আছে: দিনলিপি, বিবিধ — by বোকামাষ্টার @ 11:03 pm
Tags: , , , , ,

আর শোনা হবেনা দরাজ কন্ঠের সেই চির আন্তরিক কুশল জিজ্ঞাসা – কী ক্যামন আছো?

আর দেখতে পাবোনা সেই সাফল্যের প্রতিমূর্তি । ছাত্র ছাত্রীদের যিনি মুহূর্তে আপন করে নিতেন, আদর্শ শিক্ষকের মতো গাইড করতেন, তাদের সাফল্যে আনন্দে মেতে উঠতেন, তাদের ব্যর্থতায় ভেঙ্গে পড়তেন শিশুর মতো – সেই চির নবীন শ্মশ্রূমন্ডিত চেহারা আর কখনো খবর নিবেন না তার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের; আর কোন ছাত্রের খারাপ ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে অল্পদিনের মাঝে তাকে ভালো ছাত্রের দলে ঢোকানোর জন্য প্রাণপাত করবেন আমাদের সবার অতি শ্রদ্ধাভাজন, অতি প্রিয় মিয়া মোঃ মনিরুজ্জামান;  তিনি ঘুমিয়ে গেছেন চিরতরে গত রাত একটা পঞ্চান্ন মিনিটে ( ইন্নালিল্লাহি … … .. রাজেউন)।

হাজারো স্মৃতি, সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনার।

তিনি সম্পর্কে ছিলেন আমার খালু। ১৯৮০ সনে আমার খালার সাথে ওনার বিয়ে হয়। আমি তখন ক্লাশ সিক্সে পড়ি। উনি আমাদের বাংলা পড়াতেন।  তিনি ছিলেন বাংলা ও ইংরেজী উভয় সাহিত্যে মাষ্টার্স করা আমাদের স্কুলের একমাত্র শিক্ষক। লিখতেন ডাবল এমএ। আমরা সেই ছোট বিচ্ছুর দল এটার ব্যাখ্যা করেছিলাম উনি একবারে এমএ পাশ করতে পারেননি বলেই তাকে ডাবল বা দুইবার এমএ করতে হয়েছে। ধর্মের উপরও তার ছিলো অগাধ দখল।

নাইন টেনে পড়ার সময় তার কাছ থেকেই আমার ভাষা শিক্ষার শুরু। ব্যাকরণ যে একটা মজার বিষয় হতে পারে সেটা আগে জানতাম না। ওনার কাছ থেকে শিখি কীভাবে রচনায় সাহিত্যের ছোয়া দেয়া যায়, কত ছোট করে কত সুন্দর ও প্রাঞ্জল ভাষায় অনুবাদ, প্যারাগ্রাফ বা সারমর্ম ইত্যাদি লিখা যায়। আর এসবের ফসল হিসেবেই বোধকরি এসএসসি তে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ৮০, ইংরেজী উভয় পত্রে ৭৯ করে পেয়েছিলাম সেই ১৯৮৫ তে।

শিক্ষকদের দলাদলির বলি হিসেবে যখন তিনি ওয়েষ্ট এন্ড হাই স্কুল ছেড়ে এলেন, খুব আর্থিক কষ্টে পড়েছিলেন। গড়ে তুললেন মুকুলিকা শিক্ষালয়। আর তারপরই হয়ে গেলেন ইতিহাস। নতুন একটা কিন্ডারগার্টেন কে অলৌকিক মন্ত্র বলে মাত্র চার বছরের মাথায় শহরের অন্যতম ভালো একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিণত করলেন। এরপর দায়িত্ব নিলেন তখন পর্যন্ত অখ্যাত, নিতান্তই মাঝারীমানের বিডিআর হাই স্কুলের। তিল তিল পরিশ্রমে গড়ে তুললেন একে। নিঃসন্তান এই মানুষটির কাছে বিদ্যালয় আর তার ছাত্রছাত্রীরাই ছিলো সন্তানতুল্য। আজকের রাইফেলস স্কুলের দেশজোড়া সুনামের পিছনে রয়েছে তার নিরলস শ্রম আর মেধা।

আজ তাই প্রার্থনা করি আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন।

অগাষ্ট 23, 2008

আমার সপ্তাহান্তিক চেতনা

যার অধীনে আছে: দিনলিপি, বিবিধ — by বোকামাষ্টার @ 11:57 pm
Tags: , , , , , ,

একটা সপ্তাহ কেমন করে যে হুট করে কেটে গেলো!
বউ টা ঢাকায় নতুন চাকরী শুরু করেছে, তাই কিছুটা ধানাই পানাই করেই সপ্তাহখানেকের একটা ডিউটি ম্যানেজ করলাম – ঢাকায় না, তবে কাছাকাছি। উদ্দেশ্য অতি পরিস্কার। দিনে ডিউটি টিউটি যা-ই করিনা ক্যানো, রাতে তো বউ বাচ্চার দেখা পাবো! প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা অতোটা লম্বা জার্ণি খুব ক্লান্তিকর হলেও প্রাপ্তির পরিমাণটাই বেশী মনে হলো।
কায়দা করে ডিউটি tenure টা সেট করায় বিয়ে বার্ষিকীটাও একসাথে কাটানো হবে – ফুরফুরে মেজাজে রওনা হলাম। ঢাকা পৌছলাম বেলা আটটার দিকে – প্রথমেই মেয়েদের দেখতে হবে তাই সরাসরি শ্বশুরবাড়ি। ঘুমভাঙ্গা মেয়ে দুটোর বিস্মিত আর আনন্দিত মুখ দুটো দেখেই মন ভরে গেল। মেয়েদেরকে আলসি ভাঙ্গিয়ে টেনে তুলে নাস্তার টেবিলে নিয়ে যেতে লাগলো অনেকক্ষণ।
সবাইকে নিয়ে বাসায় গেলাম। অনেকদিন পর আম্মার সাথে দেখা হলো। সন্ধ্যায় ঘুমন্ত বড়টিকে দাদীর জিম্মায় রেখে ছোট মেয়ে নিয়ে আমরা দুজন মার্কেটে। গিফট কেনা নিজের জন্য বউয়ের পক্ষ থেকে। সময় না থাকায় অঞ্জনস এ যাওয়া গেলো না, মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ওকে সেদিনের দেখে আসা ড্রেস টা গিফট দেয়ার জন্য অতো কষ্ট করে এই মাসের মাঝখানে ধারদেনা করে টাকার যোগাড় করলাম কিন্তু সময়ের জন্য কিনতে পারলাম না। এদিকে বউ তো নিশ্চিত হয়ে বসে আছে যে আমার হাত খালি তাই কিছু কিনলাম না। এমন ভাব করে থাকলো যে বিয়ে বার্ষিকী তে আমি ওকে কোন গিফট দিবোনা এটাই স্বাভাবিক। ভেতর ভেতর দগ্ধ হচ্ছিলাম। কিন্তু কী আর করা? সারাদিনে মেয়েদের জরুরী কাজগুলো সারতেই যে সময় পেলাম না।
শনিবার সকালে প্রথম কাজই হলো অঞ্জনস এ গিয়ে সেই ড্রেসটা কেনা। অন্য বাজার সেরে যখন ঘেমে নেয়ে ঘরে ফিরলাম, বউ কোন কৌতুহল দেখালোনা হাতে প্যাকেট টা দেখেও (খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা, যে মেয়ে পারলে এক্সরে স্ক্যান করে আমাকে বাইরে থেকে ফেরার পর, তার পক্ষে তো বটেই)। অনেক আগ্রহ নিয়ে ধরে বসিয়ে ড্রেসটা দেখালাম, ধারণা ছিলো ওর মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, কিন্তু কই? এমন একটা ভাব করলো যেন কীট পতঙ্গ দেখছে। রাগের কারণটা বুঝতে পারছি, খারাপ লাগছে খুব, আমার একটু একটু কষ্টও হচ্ছে ও কেনো আমাকে বুঝতে চাইছেনা। কী আর করা? দু:খ চেপেই থাকতে হলো পুরোটা সপ্তাহ। আমাকে ওর গিফট দেয়া শার্টটা পরতে বাধ্য করলো কিন্তু কোনভাবেই আমার দেয়া ড্রেসটা পড়াতে পারলামনা।
প্রতিদিন ডিউটি সেরে সন্ধ্যার মধ্যে রওনা দিলেও টঙ্গী – উত্তরা – এয়ারপোর্ট – মূল ঢাকার জ্যাম ঠেলে বাসাবো পৌছাতে রাত দশটা। এরপর লোডশেডিং আর মশার রাজত্বে বসে মেয়েদের সাথে সারাদিনের জমানো গল্প বিনিময় , খাইয়ে , ঘুম পারিয়ে যতক্ষণে ফ্রি হতে পারলাম ততক্ষণে সারাদিনের চাকুরী-ক্লান্ত বউটা আমার গভীর ঘুমে হারিয়ে গেছে। আবার ভোর থাকতেই বিছানা ছাড়া, পুনরাবৃত্তি আগের দিনের। সপ্তাহটা এভাবেই কেটে গেলো, কীভাবে তা বোঝার আগেই। তাই শেষ রাত হিসেবে গতরাতটা গল্প করে কাটালাম দুজন। অনেক অনেকদিন পর। যখন ঘুম জাকিয়ে বসছে চোখে, মোবাইলের এলার্ম সশব্দে প্রতিবাদ জানালো – একদম সময় নেই। আর কী? খুব দ্রুত তৈরী হয়ে দৌড় নীলসাগর ধরতে।
সন্ধ্যার আগ দিয়ে ঘরে ফিরেছি। খুব মন খারাপ লাগছে এখন ওদের সবার জন্য। ছুটিটা খায়নি কিছু আমি ফিরে যাবো আশায়। মারে কবে যে বুঝতে শিখবি?

অগাষ্ট 7, 2008

আমার বেলা যে যায়

যার অধীনে আছে: দিনলিপি, বিবিধ — by বোকামাষ্টার @ 11:44 pm

তুমি এলে পায়ে পায়

আমার কন্যারা

আমার কন্যারা

অনেকটা সময়, তাই না?

হ্যা, সেই ১৯৮৮ থেকে এই ২০০৮। লম্বা সময় তো বটেই।

সেদিনের সেই ছোট্ট মেয়েটা আজ যে আমার সংসারের কর্ত্রী। পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। বদলেছে চারপাশ, বদলেছি আমরা। তাই তো সেই লজ্জাবনত মুখ আজ সটান চোখে চোখ রেখে শাসন করতে চায়। এতোদিনের ব্যবধানে বোধকরি আমি তার কাছে একটা অভ্যস্থতাতে পরিণত হয়েছি। তাইতো যতোই হাতড়ে মরি সেই প্রেম, সেই শিহরণ, সেই ভালোলাগার দোলা – কিছুই আর আগের মতো করে পাই না।

আচ্ছা শুধু কি সে ই বদলেছে, নাকি পাল্টেছি আমিও? ঠিকই তো আছে। আমিওতো অনেক বদলে গেছি, অল্পেই এখন ক্যানো যেনো বিরক্ত হয়ে উঠি। শরীরেও যেনো আর সেই অনুভূতির তীব্রতাটুকু টের পাই না।

সামনের সপ্তাহে পুরো হচ্ছে আমাদের বিয়ের আট বছর। খুব সুন্দর একটা ড্রেস দেখছিলাম সেদিন অঞ্জনস এর ধানমন্ডি শাখায়। কিন্তু মাসের এই মাঝখানে এখন কীভাবে যে অতগুলো টাকা স্পেয়ার করবো? আচ্ছা এই ফ্যাশন হাউজগুলো এতো দাম নেয় ক্যানো?

মনটাই খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

Powered by WordPress.com